ষাট মিনিট, চল্লিশটা প্রশ্ন, তিনটা সেকশন। সংখ্যাগুলো সবাই জানেন। তবু মক টেস্ট শেষে অর্ধেক মানুষের গল্পটা এক — "Section 3-এ যখন গেলাম, হাতে ছিল এগারো মিনিট।"
কারণটা রহস্যময় কিছু না। ঘণ্টাটা ভেতর থেকে দেখতে কেমন হওয়ার কথা, সেটা কেউ বলে দেয়নি।
উপরের ভিডিওতে পুরো পরিকল্পনাটা আছে, এক মিনিট চুয়ান্ন সেকেন্ডে। নিচে সেটাই লেখা আকারে — সঙ্গে কোনটা অফিসিয়াল তথ্য আর কোনটা স্রেফ প্রচলিত কথা, সেই ফারাকটাও।
অফিসিয়ালি আসলে কী বলা আছে
ielts.org-এ Academic Reading-এর হিসাব: ৬০ মিনিট, ৪০টা প্রশ্ন, ৩টা সেকশন, আর তিন সেকশনের লেখা মিলিয়ে "2150–2750 words"। General Training-এও একই ঘণ্টা, একই ৪০ প্রশ্ন, লেখা ২,১৫০ থেকে ২,৩৭৫ শব্দ।
এটুকুই। ঘণ্টাটা কীভাবে ভাগ করবেন, সেটা IELTS কোথাও বলে দেয়নি — একটা পেজেও না। তাই কোনো ভাগকে যখন "IELTS Reading-এর গোল্ডেন রুল" বলা হয়, তখন বুঝবেন কেউ একজন লিখেছিলেন আর বাকিরা কপি করেছেন।
পরিকল্পনাটা: ১৫, ২০ আর ২৫ মিনিট
কাউকে প্র্যাকটিস করতে দেখার সময় আমি এই ভাগটাই ধরি:
| সেকশন | সময় | কেন |
|---|---|---|
| Section 1 | ১৫ মিনিটের মতো | লেখাটা সবচেয়ে সহজ, প্রশ্নও বেশি সরাসরি |
| Section 2 | ২০ মিনিটের মতো | লেখা ঘন হয়, প্রশ্ন আর প্যাসেজের ভাষায় ফারাক বাড়ে |
| Section 3 | ২৫ মিনিটের মতো | সবচেয়ে কঠিন প্যাসেজ, আর ভারী প্রশ্নগুলোও এখানেই |
পনেরো, বিশ আর পঁচিশ মিলে ঠিক ষাট — ব্যাপারটা এখানেই। পুরো সময়টা খরচ হয়, আর সবচেয়ে বড় ভাগটা পড়ে সেখানে, যেখানে কাজ সবচেয়ে কঠিন।
ভাগের চেয়েও জরুরি একটা নিয়ম
এক প্রশ্নে বসে থাকবেন না।
নষ্ট হওয়া পেপারগুলোর গল্প প্রায় একই। পুরো সময় ধীরে পড়েছেন, তা নয়। মিনিট বাইশের দিকে এমন একটা প্রশ্ন পড়েছে যেটা কিছুতেই ছাড়তে ইচ্ছে করেনি। ছয় মিনিট চলে গেছে ওখানেই। বাকি ঘণ্টাটা কেটেছে হারানো সময় পুষিয়ে নেওয়ার তাড়াহুড়োয়।
প্রশ্নটা আসছে না? ফ্ল্যাগ দিন, মাথায় কিছু থাকলে বসিয়ে দিন, তারপর এগিয়ে যান। তিনটা কারণে এটা সবসময় ঠিক সিদ্ধান্ত।
- ভুল উত্তরে নম্বর কাটা যায় না। ফাঁকা ঘর আর ভুল উত্তরের দাম সমান, তাই অনুমান করাটা পুরোপুরি ঝুঁকিহীন।
- পরের প্রশ্নটার দাম এটার সমান। এক নম্বর। যে প্রশ্নটা আপনি দেখেনইনি, সেটা হাতছাড়া করা মানে নিজে থেকে নম্বর ছেড়ে দেওয়া।
- ফিরে এলে অনেক সময় ধরা দেয়। সেকশনের বাকিটা শেষ করে আসার পর ঘুরিয়ে লেখা কথাটা হঠাৎ চোখে পড়ে। একই জায়গায় বসে থাকলে সেটা হয় না।
রিডিংয়ে উত্তর তোলার বাড়তি সময় নেই
এই ভুলটা অনেকের গোটা ব্যান্ড খেয়ে ফেলে, আর এসেছে এমন এক পরীক্ষার পরামর্শ থেকে যেটা বাংলাদেশে এখন প্রায় কেউ দেন না।
IDP-র নির্দেশনা সোজা কথায় বলে দেয়: Reading-এ উত্তর transfer করার জন্য বাড়তি সময় নেই। যে দশ মিনিটের কথা সবার মনে আছে, সেটা ছিল কাগজের Listening-এ — প্রশ্নপত্র থেকে আলাদা উত্তরপত্রে উত্তর তুলতে হতো বলে। Reading-এ ওই সুযোগ কোনোদিনই ছিল না।
তাই উত্তরগুলো মাথায় বা প্রশ্নের পাশে জমিয়ে "শেষে একসাথে তুলব" ভাববেন না। কম্পিউটারে দেওয়া পরীক্ষায় তো আলাদা উত্তরপত্রই নেই — প্রশ্নের পাশের ঘরে টাইপ করেন, আর সময় শেষ হলে স্ক্রিন যা আছে তা-ই সেভ করে বন্ধ হয়ে যায়।
পুরো প্যাসেজ পড়ার দরকার নেই
লেখার দৈর্ঘ্য নির্দিষ্ট, আপনার ঘণ্টাও নির্দিষ্ট। বদলাতে পারেন কেবল একটা জিনিস — একই লেখার ওপর দিয়ে আপনি কতবার যাবেন।
আগে প্রশ্ন পড়ুন, বুঝুন কোন তথ্যটা চাওয়া হচ্ছে, তারপর সেটাই খুঁজুন। নাম, তারিখ, সংখ্যা — এগুলো ঘুরিয়ে লিখলেও বদলায় না, তাই এগুলোই ধরে এগোনো সবচেয়ে সহজ। যা পেলেন, কেবল তার আশপাশটুকু মন দিয়ে পড়ুন। পুরো কৌশলটা আলাদা লেখায় আছে: স্কিমিং আর স্ক্যানিং, আর কিওয়ার্ডের ফাঁদ।
শেষ পাঁচ মিনিট
এই সময়টা নতুন করে প্যাসেজ পড়ার জন্য নয়। তিনটা কাজের জন্য, এই ক্রমে:
- সব ঘর ভরুন। ভুলে নম্বর কাটা যায় না, তাই ফাঁকা ঘর মানে হাতে থাকা নম্বর ফেলে আসা।
- শব্দসীমা মিলিয়ে নিন। "No more than three words" লেখা থাকলে চার শব্দ লিখলে ঠিক উত্তরটাও শূন্য পায়।
- বানান আর একবচন-বহুবচন দেখুন। বানান ভুল মানেই উত্তর ভুল, আর completion প্রশ্নে সবচেয়ে বেশি নম্বর যায় ওই 's' না বসানোয়।
পুরো পেপার জুড়ে না হয়ে যদি নির্দিষ্ট কোনো ধরনের প্রশ্নেই সময় হারায়, তাহলে সমাধান ঘড়ি নয় — কোন ধরনের প্রশ্নে এক নম্বর পেতে কত মিনিট লাগছে, সেটা মেপে দেখা: দশটা ফাঁকা উত্তরে ব্যান্ড কতটা নামে, আর প্রশ্নের ধরন ধরে সময় ভাগ।
ছকটা মুখস্থ নয়, প্র্যাকটিস করুন
সময়ের ছক মুখস্থ করে লাভ নেই। এটা অভ্যাসের ব্যাপার, আর অভ্যাস তৈরি হয় থামা ছাড়া এক ঘণ্টা পার করলে।
পুরো একটা রিডিং পেপার দিন — তিন সেকশন, ৬০ মিনিট, মাঝখানে থামা নেই। প্রতিটা সেকশন শুরুর সময় ঘড়িটা দেখে নিন, এটুকুই যথেষ্ট। Section 3 যদি ২০ মিনিটের কম নিয়ে শুরু হয়, তাহলে গণ্ডগোলটা আগেই হয়েছে — আর কোথায় হয়েছে, সেটাও আপনি এখন আন্দাজ করতে পারবেন।
আমাদের Cambridge পেপারগুলো ফ্রি, আর স্ক্রিনটা computer-delivered পরীক্ষার মতো করেই বানানো: পাশাপাশি প্যাসেজ আর প্রশ্ন, হাইলাইটার, ছেড়ে আসা প্রশ্নের জন্য ফ্ল্যাগ, আর সেই একই ঘড়ি। জমা দেওয়ার সাথে সাথেই Reading আর Listening-এর নম্বর, তাই নম্বর আর মিনিট — দুটো হিসাবই হাতে হাতে পেয়ে যাবেন। আমরা Cambridge, IDP বা British Council-এর সাথে যুক্ত নই।
ফরম্যাটের তথ্যগুলো ielts.org আর IDP-র পেজ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ মিলিয়ে নেওয়া।




