
সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ IDP-তে বাংলাদেশে IELTS-এর ফি ছিল ৩১,১০০ টাকা। প্রস্তুতিতে এর ধারেকাছেও খরচ হওয়ার দরকার নেই। যা লাগে তার বেশির ভাগই ফ্রি — শুধু ঠিক ক্রমে ব্যবহার করতে হবে।
এটা সেই পরিকল্পনা যেটা আমি একজন বন্ধুকে দিতাম — যার চাকরি বা ক্লাস আছে, পরীক্ষার এক মাস বাকি, আর কোচিংয়ের জন্য আলাদা টাকা রাখা নেই। একা কী করা যায় আর কী যায় না, দুটো নিয়েই সৎভাবে বলছি।
শুরুর আগে: নিজে কোথায় আছেন জানুন
বেশির ভাগ মানুষ প্রস্তুতি শুরু করে একটা vocabulary বই খুলে। এটা করবেন না। শুরু করুন আসল সময় ধরে একটা পুরো প্র্যাকটিস টেস্ট দিয়ে, চারটা মডিউলই।
সম্ভবত অস্বস্তি লাগবে। সেটাই উদ্দেশ্য। তিন ঘণ্টায় এমন দুটো জিনিস জানবেন যা আর কিছুতে জানা যায় না: কোন মডিউলটা সবচেয়ে দুর্বল, আর এখনকার লেভেল থেকে দরকারি ব্যান্ড কত দূরে।
চারটা ব্যান্ড হাতে এলে ওভারঅল ব্যান্ড হিসাব করুন আর দেখুন কোন মডিউলটা নিচে টানছে। মাসের বেশির ভাগ সময় যাবে ওটাতেই।
৩০ দিন কি যথেষ্ট?
পুরোটাই নির্ভর করে ওই প্রথম টেস্টের ওপর।
লক্ষ্য থেকে আধা থেকে এক ব্যান্ড দূরে থাকলে ৩০ দিন যুক্তিসঙ্গত সময়। ফরম্যাট ঠিকমতো শেখা, দুর্বল মডিউল ঠিক করা, আর তিন ঘণ্টা মনোযোগ ধরে রাখার অভ্যাস — সবই হয়ে যায়।
দেড় ব্যান্ড বা তার বেশি ওঠার দরকার হলে এক মাসে ইংরেজি সাধারণত অতটা বদলায় না। কৌশল উন্নত করা যায়, তবে তারিখ নিয়ে বাস্তববাদী হন। পরীক্ষার তারিখ সরাতে ৩,০০০ টাকা লাগে; আগেভাগে দিয়ে রিটেক করতে হলে লাগে অনেক বেশি। বুক করার আগে বাংলাদেশে IELTS-এর পুরো খরচের হিসাব একবার দেখে নিন।
যে ফ্রি রিসোর্সগুলো কাজের
এক তাক বই লাগবে না। লাগবে কয়েকটা ভালো উৎস, ঠিকভাবে ব্যবহার করা।
- ielts.org — যারা পরীক্ষাটা বানায়, তাদের নিজেদের ফ্রি রিসোর্স আর নমুনা প্রশ্ন। প্রতিটা অংশ দেখতে ঠিক কেমন, এখান থেকে শিখুন।
- British Council-এর IELTS Ready — এর একটা ফ্রি অংশ আছে। British Council-এ বুক করলে আরও খুলে যায়।
- পুরো প্র্যাকটিস পেপার। ফ্রিতে এটাই পাওয়া সবচেয়ে কঠিন, কারণ আসল প্র্যাকটিস টেস্টে পুরো অডিও, পুরো প্যাসেজ আর সঠিক answer key লাগে। আমাদের Cambridge পেপারগুলো ফ্রিতে দেওয়া যায়, আসল পরীক্ষার মতোই কম্পিউটারের ফরম্যাটে।
ফেসবুক গ্রুপে ঘোরা এলোমেলো PDF নিয়ে সাবধান। কিছু PDF-এ answer key ভুল থাকে, আর ভুল key দিয়ে অনুশীলন করলে ভুল জিনিসটাই পুরো আত্মবিশ্বাস নিয়ে শিখে ফেলবেন।
ফোনে না, কম্পিউটারে অনুশীলন করুন
বাংলাদেশে এটা যতটা জরুরি, মানুষ ততটা বোঝে না। এখানে কাগজের IELTS আর হয় না, তাই আপনার পরীক্ষা হবে কম্পিউটারে।
২৮০ শব্দের রচনা টাইপ করা আর হাতে লেখা এক জিনিস না। মনিটরে স্ক্রল করতে করতে লম্বা প্যাসেজ পড়া আর পেন্সিল হাতে কাগজে পড়াও এক না। মাউস দিয়ে চল্লিশটা প্রশ্নে যাওয়া-আসায় অভ্যস্ত হতে সময় লাগে।
অন্তত পুরো মক টেস্টগুলো ল্যাপটপ বা ডেস্কটপে দিন। বাসে বসে vocabulary বা listening-এর জন্য ফোন ঠিক আছে, কিন্তু আসল জিনিসের মহড়ার জন্য না।
৩০ দিনের পরিকল্পনা
ধরে নিচ্ছি সপ্তাহের দিনে দুই ঘণ্টার মতো আর ছুটির দিনে একটু বেশি সময় পাবেন। নিজের দুর্বল মডিউল অনুযায়ী এদিক-ওদিক করে নিন।
প্রথম সপ্তাহ: পরীক্ষাটা চেনা আর দুর্বল জায়গা খোঁজা
- প্রথম দিন: আসল সময় ধরে একটা পুরো প্র্যাকটিস টেস্ট দিন। মাঝে কিছু খুঁজবেন না।
- দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন: প্রতিটা ভুল ধরে ধরে দেখুন। Listening আর Reading-এ শুধু সঠিক উত্তর কী ছিল না — আপনার উত্তর কেন ভুল হলো, সেটা বের করুন।
- চতুর্থ থেকে সপ্তম দিন: প্রতিটা অংশের ফরম্যাট ঠিকমতো শিখুন। কয়টা প্রশ্ন, কত সময়, আর কোন ধরনের প্রশ্ন কী চায় — সব জেনে নিন।
দ্বিতীয় সপ্তাহ: দুর্বল মডিউলে কাজ
প্রতিদিনের সময়ের প্রায় অর্ধেক দিন সবচেয়ে দুর্বল মডিউলে, বাকিটা দিয়ে অন্যগুলো চালু রাখুন।
- Listening দুর্বল হলে দিনে একটা সেকশন করুন, আর যেটুকু মিস করেছেন transcript দেখে আবার শুনুন। ৪০-এ কত পেলেন না দেখে প্রতিটা part আলাদা করে গুনুন — নম্বর সাধারণত Part 3 আর 4-এই যায়।
- Reading দুর্বল হলে ঘড়ি ধরে দিনে একটা প্যাসেজ করুন। Reading-এ বেশির ভাগ নম্বর যায় সময় সামলাতে না পারায়।
- Writing বা Speaking দুর্বল হলে তৃতীয় সপ্তাহের কাজ আগেই শুরু করুন।
তৃতীয় সপ্তাহ: Writing আর Speaking
একা পড়ায় এই দুটোই সবচেয়ে কঠিন, কারণ নিজের রচনা band descriptors ধরে নিজে বিচার করা যায় না।
- Writing: ৪০ মিনিট করে অন্তত তিনটা Task 2 লিখুন। পরিষ্কার চার-অনুচ্ছেদের গঠন মানুন, মুখস্থ টেমপ্লেট না। অন্তত একটায় criteria জানেন এমন কারও ফিডব্যাক নেওয়ার চেষ্টা করুন। Academic দিলে Task 1-কেও তার ২০ মিনিট দিন — ঐ band-এর বেশিরভাগটা ঠিক করে overview-র অনুচ্ছেদটা।
- Speaking: প্রতিদিন Part 1-এর চেনা প্রশ্নগুলো আর প্রতিদিন একটা Part 2-এর cue card নিয়ে নিজের উত্তর রেকর্ড করুন। একবার শুনুন। লম্বা থামা আর বারবার একই শব্দ খেয়াল করুন, পরদিন আবার রেকর্ড করুন।
চতুর্থ সপ্তাহ: পুরো টেস্ট আর বিশ্রাম
- ২২ আর ২৫ নম্বর দিন: আসল সময় ধরে প্রতিদিন একটা করে পুরো প্র্যাকটিস টেস্ট।
- মাঝের দিনগুলো: শুধু ভুলগুলো দেখুন। নতুন কিছু শুরু করবেন না।
- শেষ দুই দিন: হালকা অনুশীলন। ঠিকমতো ঘুমান। পরীক্ষাকেন্দ্র কোথায়, পরিচয়পত্র, শুরুর সময় — সব মিলিয়ে নিন।
মাসের শেষের দ্বিতীয় পুরো টেস্টটাই ভরসার। লক্ষ্যের কাছাকাছি এলে আপনি প্রস্তুত। তখনো অনেক দূরে থাকলে আশায় বুক বেঁধে পরীক্ষা দেওয়ার চেয়ে তারিখ সরানো সস্তা।
যা একা করা যায় না
এটা নিয়ে সৎ থাকলে পরে টাকা বাঁচে।
Listening আর Reading নিজে মার্ক করা যায়, কারণ সঠিক উত্তর একটাই। Writing আর Speaking যায় না। রেকর্ড করে, আবার লিখে একা অনেকটা উন্নতি সম্ভব, কিন্তু একসময় এমন একজন মানুষ লাগবে যিনি বলবেন কোন criterion আপনাকে আটকে রেখেছে। শিক্ষক হোক, ভালো স্কোর করা কোনো বন্ধু হোক, বা কোনো মার্কিং সেবা — এর ব্যবস্থা আগে থেকে রাখুন, নিজের বিচারই যথেষ্ট ধরে নেবেন না।
মাস শেষে প্রস্তুত কি না বুঝতে না পারলে, মনের আত্মবিশ্বাসের চেয়ে এই পাঁচটা চেক বেশি নির্ভরযোগ্য।
শুরু করুন একটা পুরো টেস্ট দিয়ে
এই পুরো পরিকল্পনা দাঁড়িয়ে আছে প্রথম টেস্টটার ওপর। ওটাই বলে দেয় ৩০ দিন যথেষ্ট কি না, আর দিনগুলো কোন মডিউলে দেবেন।



